ক্রিকেট খেলা

বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ লঙ্কানদের কাছে !!

বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে শফিউল ইসলাম ও সৌম্য সরকার ৩টি, তাইজুল ও রুবেল একটি করে উইকেট শিকার করেন।

শ্রীলঙ্কার দেয়া ২৯৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেটে হারাতে থাকে বাংলাদেশ দল। হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে ১১৭ রানে ৭ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে টাইগাররা।

দলীয় ৪ রানেই ফেরেন ওপেনার তামিম ইকবাল। মাত্র ২ রান করে শেষ অডিআই ম্যাচে কাসুন রাজিথার বলে কুশল পেরেরাকে ক্যাচ দিয়ে খাতায় ধারাবাহিক ফ্লপের তালিকা আরেকটু দীর্ঘ করলেন বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। শ্রীলঙ্কা সিরিজে তিন ম্যাচে তার সংগ্রহ মাত্র ২১ রান।

এক বছর পর জাতীয় দলে ফিরে প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পারেননি এনামুল হক বিজয়। ১২ মাস পর জাতীয় দলে ফিরে মাত্র ১৪ রানে আউট হন এ ওপেনার।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই খেলায় ৬৭ ও ৯৮* রান করে সিরিজের সেরা ব্যাটস্যানের দৌড়ে শীর্ষে থাকা মুশফিকুর রহিম বুধবার ফেরেন মাত্র ১০ রানে।

৪৬ রানে তামিম-বিজয়-মুশফিকের বিদায়ের পর দলীয় ৬০ রানে ফেরেন মিঠুন। আগের দুই ম্যাচে ১০ ও ১২ রান করা এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ফেরেন মাত্র ৪ রানে। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

কলম্বোয় লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে ৩ ও ৬ রানে আউট হওয়া এ অলরাউন্ডার বুধবার আউট হন মাত্র ৯ রানে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ের ম্যাচে আশানুরুপ ব্যাটিং করতে পারেননি সাব্বির রহমান রুম্মন ও মেহেদি হাসান মিরাজ। ৭ ও ৮ রানে ফেরেন তারা। দলীয় ২৪.৪ ওভারে প্রথম সারির ৭ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকেই কার্যত ছিটকে যায় টাইগাররা।

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ খেলায় শ্রীলঙ্কার কাছে ১২২ রানের হেরে হোয়াইটওয়াশের শিকার হলো বাংলাদেশ। লঙ্কানদের দেয়া ২৯৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩৬ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয়ে যায় তামিম ইকবালের দল। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৯ রান আসে সৌম্য সরকারের ব্যাট থেকে।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের (৮৭) ও কুশল মেন্ডিসের (৫৪) রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৪ রান সংগ্রহ করে লঙ্কানরা।

বুধবার কলম্বো প্রেমাদাস স্টেডিয়ামে হোয়াইটওয়াশের মিশনে শ্রীলঙ্কা, অন্য দিকে হেয়াইটওয়াশ এড়াতে মাঠে নামে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়।

ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই পেসার শফিউল ইসলাম আঘাত হানেন লঙ্কান শিবিরে। ইনিংসের ৫ম ওভারে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান অভিস্কা ফার্নান্দোকে ফেরান তিনি। ১৪ বলে ৬ রান করেন ফার্নান্দো ।

দ্বিতীয় ইউকেটে ধিমুথ করুনারত্নে ও কুশল পেরেরার ৮৭ রানের জুটি দলের প্রাথমিক চাপ সামিলে নেয়। দলীয় ৯৬ রানের মাথায় ৬০ বলে ৪৬ রান করে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে ফেরেন করুনারত্নে।

৯৮ রানের মাথায় কুশল পেরেরাকে হারালে ফের চাপে পড়ে লঙ্কানরা। পেসার রুবেল হোসেনের বলে উইকেরক্ষক মুশফিকের তালুবন্দী হন তিনি। পেরেরার ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে ৪২ রানের এক স্বভাবসুলভ ইনিংস।

ব্যাটিং বিপর্যয়ের ম্যাচে আশানুরুপ ব্যাটিং করতে পারেননি সাব্বির রহমান রুম্মন ও মেহেদি হাসান মিরাজ। ৭ ও ৮ রানে ফেরেন তারা। দলীয় ২৪.৪ ওভারে প্রথম সারির ৭ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকেই কার্যত ছিটকে যায় টাইগাররা।

দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে একাই লড়াই করে যান সৌম্য সরকার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ব্যাটিংয়ে নামা সৌম্য ব্যাটসম্যানদের আমা-যাওয়ার মিছিলে একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দলীয় ১৪৩ রানে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। আকিলা ধনাঞ্জয়ার স্পিনে বিভ্রান্ত হওয়ার আগে ৮৬ বলে ৫টি চার ও এক ছক্কায় ৬৯ রান করেন তিনি।

ইনিংসের শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম ২৮ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করে ব্যবধান কমালেও দলের হার এড়াতে পারেননি।

৩৬ ওভারে ১৭২ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ১২২ রানের জয় পায় শ্রীলংকা।

লঙ্কান বোলারদের মধ্যে শানাক ৩টি. রাজিথা ও লাহিরু কুমারা ২টি, ধনাঞ্জয়া এবং হাসারাঙ্গা একটি করে উইকেট শিকার করেন।

ম্যান অব দ্যা ম্যাচ : ব্যাট হাতে ৮৭ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন লঙ্কান ব্যাটসম্যান অ্যাঞ্জেলা ম্যাথুস।

৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা ধুঁকতে থাকে শ্রীলঙ্কা। বল হাতে বাংলাদেশও চেপে ধরে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের।

কিন্তু চতুর্থ উ্ইকেটে ম্যাথুস ও মেন্ডিসের ১০১ রানের জুটি চালকের আসনে নিয়ে যায় শ্রীলঙ্কাকে।

দুজনেই তুলে নেন ফিফটি। ৫৮ বলে ৫৪ রান আসে মেন্ডিসের ব্যাট থেকে। ৯০ বলে ৮চার ও এক ছয়ে ৮৭ রান করেন ম্যাথুস।

শেষ দিকে শানাকার ১৪ বলে ৩০ ও হাসারাঙ্গার ৫ বলে ১২ রানের ওপর ভর করে ৫০ ওভরে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৪ রান করে শ্রীলঙ্কা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

[social_share_button themes='theme1']